
টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, ওটিটিসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘গ্রিনলিফ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন চিত্রনায়িকা নূতন ও নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ও গ্রিনলিফের আয়োজনে এবং কাচ্চি ডাইনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় এবারের আয়োজন।
সম্মাননা গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে চিত্রনায়িকা নূতন চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কাজ করেও বিভিন্ন সময়ে অবহেলার শিকার হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এ অভিনয়ের জন্য এখনো কোনো সম্মাননা না পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে আক্ষেপের।
নূতন আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে অনেক শিল্পী এসেছেন, কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। অথচ ‘ওরা ১১ জন’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পরও তার কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি—এ প্রশ্ন এখনো তার মনে রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কাজের জন্য স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশাও জানান তিনি।
এ সময় শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন, ধর্মীয় আচরণ ও পোশাক নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য না করার আহ্বান জানান নূতন। তার মতে, অভিনয়ের প্রয়োজনে শিল্পীদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও সাজসজ্জায় নিজেদের উপস্থাপন করতে হয়। কোনো শিল্পীর কাজ পছন্দ না হলে তা না দেখার অধিকার সবার রয়েছে, তবে ব্যক্তিগতভাবে নেতিবাচক মন্তব্য করা উচিত নয়।
অন্যদিকে, আজীবন সম্মাননা পেয়ে আবেগাপ্লুত মুনমুন আহমেদ বলেন, এই স্বীকৃতি তার জন্য আনন্দের পাশাপাশি একটি বড় দায়িত্বও। ১৯৭৩ সাল থেকে নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নাচই তার ধ্যান-জ্ঞান। দীর্ঘ পথচলায় নানা বাধা পেরিয়ে নিজের জন্য একটি জায়গা তৈরি করার পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও পথ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
মুনমুন আহমেদ বলেন, বর্তমানে নতুন প্রজন্ম তার শেখানো নৃত্যের মুদ্রা অনুসরণ করছে—এটিই তার দীর্ঘদিনের কাজের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন আমিন বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি মানুষকে আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করে। সেই উদ্দেশ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে।
গ্রিনলিফ ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও গ্রিনলিফ অ্যাওয়ার্ডের পরিচালক তাসলিম হাসান হৃদয় জানান, এবারের আয়োজনটি গ্রিনলিফ অ্যাওয়ার্ডের অষ্টম আসর। প্রতি বছর আয়োজনটিকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় বলেও জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, এ ধরনের সম্মাননা শিল্পীদের কাজের প্রতি আরও উৎসাহিত করবে এবং তাদের শৈল্পিক দক্ষতা ও নৈপুণ্য বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির বাবা সুব্রত চক্রবর্তী এবং অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের মা চম্পা বেগমকেও সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংস্কৃতি অঙ্গনের আরও কয়েকজন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক ওমর সানি, সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন