সর্বশেষ
Agami IT
১২ মে ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীতে স্কুল অনুষ্ঠানে ‘মাদার তেরেসা’ সাজে শিক্ষার্থী: অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া

রাজবাড়ীতে স্কুল অনুষ্ঠানে ‘মাদার তেরেসা’ সাজে শিক্ষার্থী: অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানের কিছু স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

মূল ঘটনার সূত্রপাত

অনুষ্ঠানে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাদার তেরেসা’র আদলে শাড়ি পরানো হয় এবং তাদের হাতে খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক ‘ক্রস’ সদৃশ উপকরণ দেওয়া হয়। এই বিষয়টি নজরে আসার পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সাধারণ অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক মহল।

অভিভাবকদের অভিযোগ ও উদ্বেগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, কোমলমতি শিশুদের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় আবহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিভাবকদের প্রধান প্রশ্নগুলো হলো:

সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা: মুসলিমপ্রধান দেশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?

মানসিক প্রভাব: শিশুদের একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রতি আবেগপ্রবণ করে তোলার কোনো প্রচ্ছন্ন চেষ্টা কি এটি?

কর্তৃপক্ষের ভূমিকা: স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন এই ধরনের বিতর্কিত প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয় বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেয়নি?

“শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতীক বা ব্যক্তিত্বকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না।” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় অভিভাবক।

বিতর্কের নেপথ্যে মাদার তেরেসা

মানবসবোর জন্য শান্তিতে নোবেল জয়ী হলেও মাদার তেরেসাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে রয়েছে নানা বিতর্ক। বিশেষ করে তার সেবার মান, চিকিৎসার পদ্ধতি এবং ধর্মীয় প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন সময় সমালোচনা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক বিতর্কগুলোই অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি

তবে ভিন্ন একটি অংশ মনে করছেন, এটি কেবলই একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হতে পারে। তাদের মতে, কোনো মানবিক ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরার অর্থ এই নয় যে সেটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় সচেতন মহল এবং অভিভাবকরা জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে যেন ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং স্থানীয় মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ নজর রাখা হয়।

নেশন টুডে নিউজ | বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে আমরা আপসহীন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক আনন্দের কথায় তামিম-অবন্তী সিঁথির ‘প্রিয় কবিতা’

জলের মাঝে পরীমনির আবেদনময়ী লুক, নেটদুনিয়ায় ঝড়

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: তথ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি নির্দেশনা

কেরানীগঞ্জে ১১ বছরের শিশুর বাল্যবিবাহ বন্ধ, বরসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

লালবাগে বাসা থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে অবৈধ সার কারখানায় অভিযান, মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, এনসিপি নেত্রী আটক

অটোরিকশা দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অভিনেত্রী এলিনা শাম্মী, মাথায় ১৫ সেলাই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ

১০

জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্কের ওপর জোর দিতে হবে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

১১

জিনজিরায় মোবাইলের দোকানে চুরি: আন্তঃজেলা চোরচক্রের সন্দেহে গ্রেপ্তার ৫

১২

শাহজালালে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ দুইজন আটক

১৩

আইন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

১৪

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান

১৫

জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা লিওনেল মেসির

১৬

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে কেরানীগঞ্জে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

১৭

ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, শাহবাগ থানায় ঢাবি শিক্ষকের জিডি

১৮

সব পাপ ধুয়েমুছে আল্লাহ-খোদার নাম নিয়ে মরতে চাই: পপি

১৯

বিএনপির অসংখ্য ত্যাগীরা এখন দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নেই: রুমিন

২০