
নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত ইস্যু, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক আস্থার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত ভারত সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সফরটি আয়োজনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, সফরটি বাতিল নয়—বরং সম্পর্কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে পুনরায় নির্ধারণ করা হতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনের প্রভাব
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে জুলাই মাসে এই সফরের পরিকল্পনা ছিল। তবে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য থেকেই যায়।
বিশেষ করে, হরমোজ প্রণালীর চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জ্বালানি পরিস্থিতি চাপে পড়লেও ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কের যে টানাপোড়েন শুরু হয়, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের “তাপমাত্রা” স্বাভাবিক হয়ে আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই সফরের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
নতুন কূটনৈতিক অগ্রাধিকার
ভারত সফর পিছিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী বিদেশ সফরের তালিকায় উঠে এসেছে সৌদি আরব ও জাপান।
সৌদি আরব সফর
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে খুব শিগগিরই রিয়াদ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ধরে রাখার লক্ষ্যে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাপান সফর
সৌদি আরব সফরের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, মহেশখালী-মাতারবাড়ী প্রকল্প এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে অটল অবস্থান
সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই সব আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কোনো বাহ্যিক প্রভাব নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই বর্তমান সরকারের প্রধান কৌশল।
মন্তব্য করুন