
লেখক, মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে সুপরিচিত জ্যাকলিন কাব্য আবারও আলোচনায়—তবে এবার তার নৃত্য পরিবেশনা নিয়ে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পী সাহিত্য, মডেলিং ও অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন নতুনভাবে।
জ্যাকলিনের লেখা তিনটি কবিতার বই ইতোমধ্যেই পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। মডেল হিসেবেও তিনি কাজ করছেন দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি মিরা ক্লথিং ব্র্যান্ড ও মিরা ক্যাফের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নিয়মিত যুক্ত রয়েছেন।
এক্সপেরিমেন্টাল কাজের জন্যও জ্যাকলিন বেশ পরিচিত। ‘সাবেকি’, ‘কাদম্বিনী’ ও ‘বনমালী’র মতো প্রকল্পে তিনি ভিন্নধর্মী ফটোশুটের মাধ্যমে সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোকে তুলে ধরেছেন, যা মডেলিং জগতে তাকে আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি জি-সিরিজ থেকেও তার মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি একজন সক্রিয় নাট্যকর্মী এবং স্বনামধন্য নাট্যদল ‘পালাকার’-এর নিয়মিত সদস্য। তবে নাচই ছিল তার প্রথম ভালোবাসা। স্কুল ও কলেজ জীবনে তিনি নৃত্যে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।
কিন্তু হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘটনা তার সেই পথকে থামিয়ে দেয়। প্রায় দুই-তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। দীর্ঘ সময় তাকে ক্রাচে ভর দিয়ে চলতে হয়েছে। তবুও মঞ্চের প্রতি তার টান কমেনি একটুও।
দীর্ঘ তিন বছরের চিকিৎসা, ব্যায়াম ও নিয়মিত অনুশীলনের পর অবশেষে আবার মঞ্চে ফিরেছেন জ্যাকলিন। সম্প্রতি লেখক উন্নয়ন কেন্দ্র আয়োজিত ‘প্রিয়তমা’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুরনো দিনের গানে নৃত্য পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি।
নিজের এই প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে জ্যাকলিন বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা আমার পা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই ধাক্কা জানত না—আমি পা দিয়ে নয়, মনের জোরে চলি।”
অনুষ্ঠানে আরও ঘোষণা করা হয়, শিগগিরই লেখক উন্নয়ন কেন্দ্রের আয়োজনে জ্যাকলিন কাব্যের একক নৃত্য অনুষ্ঠান ‘কাব্যসন্ধা’ অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজন শুধু নাচ নয়, শিল্প, সাহিত্য ও দেশীয় পণ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় রূপ নেবে বলে জানা গেছে।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জ্যাকলিন কাব্যের এই ফিরে আসা প্রমাণ করে—প্রতিভা আর মনোবল থাকলে কোনো বাধাই শেষ কথা নয়।
মন্তব্য করুন