
সমসাময়িক অনুভূতি, আত্মস্বীকারোক্তি এবং জীবনের প্রতি এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে জ্যাকলিন কাব্যের কবিতা ‘ব্যর্থতার নেশা’-য়। কবিতাটিতে ব্যর্থতা, হারানো এবং নিজেকে স্বেচ্ছায় পিছিয়ে রাখার এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে।
কবি এখানে প্রচলিত সাফল্যের ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে এক ভিন্ন বাস্তবতার কথা বলেছেন। যেখানে জেতার নেশা নয়, বরং হার মানার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় এক ধরনের স্বস্তি ও মুক্তি। মানুষের জীবনে ‘নেশা’ শুধু মাদকেই সীমাবদ্ধ নয়—সাফল্য, অর্জন কিংবা মানুষও হয়ে উঠতে পারে নেশার উৎস—এই বার্তাই কবিতার মূল সুর।
কবিতা: ব্যর্থতার নেশা
আমি না আসলে ঠকতেই চাই
তোমরা আমার চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দাও
আমি বড্ড বোকা,
আমি বুঝতেই পারছি না কিভাবে অনবরত ঠকে চলেছি!
আমি আসলে কম বুঝতেই চাই
আমি আসলে ঠকতেই চাই!
আমি চাই’ই কেউ আমাকে ঠকিয়ে যাক
আমাকে হারিয়ে কেউ জিতে যাক
গুণে না নেয়ার অপরাধে কেউ আমাকে দু’পয়সা কম দিক
বুঝে না নেয়ার অপরাধে কেউ আমাকে দু’নম্বরটাই দিক
তোমাদের সফলতার ভীড়ে, জিতে যাওয়া মানুষের ভীড়ে
ভীষণ বোকা, ঠকে যাওয়া, হেরে যাওয়া মানুষটাই আমি।
হেরে যাওয়া মানুষের একটা সুবিধা আছে,
না পাওয়ার আফসোস নাই
জয়ের নেশা নাই,
জয়ের নেশা আর পাওয়ার নেশা খুব বিড়ম্বনার।
পৃথিবীতে এত মাদকের উপচানোতে আর
নেশা বাড়াতে চাইনা,
আমি সেদিন থেকে জয়ের নেশা, পাওয়ার নেশা
সব ছেড়ে দিয়েছি, আমি যেদিন বুঝতে পারলাম
নেশা শুধু মাদকে হয় না, কখনো মানুষেও হয়..
মন্তব্য করুন