সর্বশেষ
প্যারিস যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না, দার্জিলিংকেই ‘প্যারিস’ বানিয়েছিলেন শাহরুখ খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ গায়ে হলুদের সাজে তৌসিফ-সাফা, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ভক্তদের কৌতূহল কেরানীগঞ্জে ইউএনওর নেতৃত্বে অভিযান, উচ্ছেদ হলো দুই শতাধিক অবৈধ দোকান যুক্তরাজ্যে ‘আঠারো আনা বাঙালিয়ানা’র ওয়েবসাইট উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত চার দিন বন্ধ থাকবে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল, কমবে গ্যাস সরবরাহ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রামে চাকরিরত পাঁচ শতাধিক আইনজীবীর সনদ স্থগিতের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
অনলাইন নিউজ ডেস্ক
৭ জুন ২০২৬, ৬:৩০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতা দেবে চীন

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কর্মসূচির আওতায় সহযোগিতা শুধু সড়ক,
সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না চীন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবন, সবুজ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী দেশটি।

তিনটি বড় বিষয়ের অধীনে মোট ২৩টি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। দেশটির জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের (এনডিআরসি) একটি সহযোগিতা পরিকল্পনা প্রস্তাবে এসব কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসে চীন সফর সামনে রেখে এসব প্রস্তাব দিয়েছে এনডিআরসি।

সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ (বিআরআই) এগিয়ে নেওয়ার সহযোগিতা পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি খসড়া নথি বেইজিংয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস পাঠায় চীন।

সেই নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই নথিটি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত করা যায়।

খসড়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় বিআরআই কাঠামোর আওতায় যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই নতুন এই খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। খসড়া নথিতে শান্তি, উন্মুক্ততা, পারস্পরিক লাভ এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে বিআরআই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব, স্বচ্ছ এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত ২৩টি সহযোগিতা খাতের মধ্যে রয়েছে- অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষা।

এ ছাড়াও পরিকল্পনায় খাতভিত্তিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম, নীতিগত সহায়তা ব্যবস্থা এবং সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে ডিজিটাল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অর্থনীতি সহযোগিতা উদ্যোগে’ যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ে দুই দেশের মহাপরিচালক পর্যায়ের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং, তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া নথিতে তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও পানি সম্পদ, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলাদা আলোচনা বা ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও চীন বাংলাদেশকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো, চায়না ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার এবং চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশন।

বাংলাদেশকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কম-কার্বন উন্নয়ন নিয়ে নতুন সমন্বয় ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিয়মিত চীনা ভাষা শিক্ষা ফোরাম আয়োজন, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে বিনিময় বৃদ্ধি এবং থিংক-ট্যাংক পর্যায়ে সংলাপ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসা প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য এবং ওষুধশিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে চীন, যা মহামারির পর স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ে বাড়তি গুরুত্বের প্রতিফলন।

খসড়ায় কৃষি, জ্বালানি, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও নতুন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। কূটনীতিকরা বলছেন, আগে বিআরআই মূলত সড়ক, সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকেন্দ্রিক ছিল। এখন ডিজিটাল সংযোগ, তথ্যভিত্তিক অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং চীনা বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্যারিস যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না, দার্জিলিংকেই ‘প্যারিস’ বানিয়েছিলেন শাহরুখ খান

১

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

২

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ

৩

গায়ে হলুদের সাজে তৌসিফ-সাফা, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ভক্তদের কৌতূহল

৪

কেরানীগঞ্জে ইউএনওর নেতৃত্বে অভিযান, উচ্ছেদ হলো দুই শতাধিক অবৈধ দোকান

৫

যুক্তরাজ্যে ‘আঠারো আনা বাঙালিয়ানা’র ওয়েবসাইট উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

৬

চার দিন বন্ধ থাকবে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল, কমবে গ্যাস সরবরাহ

৭

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৮

চট্টগ্রামে চাকরিরত পাঁচ শতাধিক আইনজীবীর সনদ স্থগিতের উদ্যোগ

৯

তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

১০

আইবিএস কি শুধু পেটের সমস্যা, নাকি মনের সঙ্গেও রয়েছে গভীর সম্পর্ক?

১১

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার দিশা, যা বলল পুলিশ

১২

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

১৩

সিনেমা-নাটক ছাড়লেন চিত্রনায়ক রাসেল মিয়া, মনোযোগ দিতে চান আল্লাহর পথে

১৪

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

১৫

তাহসিফের সুরতহাল প্রতিবেদনে যা আছে

১৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১০ জানুয়ারি

১৭

চলচ্চিত্র ও নাটকের কাজ থেকে বিদায়ের ঘোষণা অভিনেতা রাসেল মিয়ার

১৮

ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা

১৯

গাজার শিশুদের বাঁচাতে হামজার উদ্যোগ, সংগ্রহ ১ লাখ পাউন্ড

২০