
ন্যায়বিচার কি কেবল আইনের কাঠামোর মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়, নাকি কোনো কোনো সত্যের সন্ধানে মানুষকে পাড়ি দিতে হয় অন্ধকারের ভেতর দিয়ে? এমন এক গভীর নৈতিক প্রশ্নকে উপজীব্য করে প্রকাশিত হয়েছে তরুণ লেখক নুসরাত জাহান মীম (সাহিত্যিক নাম নুসরাত অপর্ণা)–এর নতুন উপন্যাস ‘তুমি ছায়া নাকি আলো’।
তিলোত্তমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত উপন্যাসটি ২৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠকের হাতে পৌঁছেছে। প্রকাশের পর থেকেই বইটি প্রথম প্রকাশ ডট কম–এর অনলাইন বুকশপে পাওয়া যাচ্ছে।
উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র অয়ন ও মায়া—দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির দুই মানুষ। অয়ন একজন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, যার দৃঢ় বিশ্বাস ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ আইন। বিপরীতে মায়া জীবনের কঠিন বাস্তবতা, প্রতারণা ও অবিচারের মুখোমুখি হয়ে উপলব্ধি করে, সব অন্যায়ের বিচার আইনের সীমার ভেতরে সম্ভব হয় না।
গল্পের শুরুতেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় মায়া। তাকে খুঁজতে গিয়ে অয়ন প্রবেশ করে ঢাকার এক অচেনা অন্ধকার জগতে, যেখানে দিনের পরিচিত নগরের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেক বাস্তবতা। সেই অভিযাত্রায় ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় এমন এক সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে আইন থাকলেও ন্যায়বিচার বহু সময় অধরাই থেকে যায়।
একপর্যায়ে অয়ন জানতে পারে, মায়া বেঁচে আছে। কিন্তু সে আর আগের সেই মানুষটি নয়। বিশ্বাসঘাতকতা, অন্যায় ও ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন তাকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ছায়াকেও অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হয়।
এই পর্যায়ে উপন্যাসটি কেবল প্রেমের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং মানুষের নৈতিক সংকট, বিবেক, প্রতিশোধ, ক্ষমা এবং আত্মপরিচয়ের গভীর অনুসন্ধানে রূপ নেয়। পাঠকের মনেও জন্ম দেয় এক অনিবার্য প্রশ্ন—অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে মানুষ যদি নিজের মানবিকতাই হারিয়ে ফেলে, তবে সেই বিজয়ের প্রকৃত মূল্য কত?
উপন্যাসটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি পাঠকের সামনে কোনো সহজ বা সরল সমাধান তুলে ধরে না। বরং শেষ পর্যন্ত রেখে যায় এক গভীর প্রশ্ন—সত্যের কাছে পৌঁছাতে হলে কি কখনো আলো ছেড়ে ছায়ার ভেতর দিয়েই হাঁটতে হয়?
লেখক নুসরাত জাহান মীম, যিনি সাহিত্যাঙ্গনে নুসরাত অপর্ণা নামে পরিচিত, মূলত কবি, গীতিকার ও কথাসাহিত্যিক। বাস্তব জীবন, ভালোবাসা, অপেক্ষা, অভিমান ও মানবিক অনুভূতি তাঁর লেখার প্রধান উপজীব্য। মানিকগঞ্জে জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা ঢাকার শনিরআখড়ায়। বর্তমানে তিনি অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
এর আগে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফের দেখা হবে’ প্রকাশের পর পাঠকমহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল। নতুন এই উপন্যাসে প্রেমের গল্পের পাশাপাশি ন্যায়বিচার, মনস্তত্ত্ব, সম্পর্কের জটিলতা এবং সামাজিক বাস্তবতাকে এক সুতোয় গেঁথেছেন তিনি।
উপন্যাসটি প্রসঙ্গে নুসরাত অপর্ণা বলেন, “এটি শুধু একটি গল্প নয়; মানুষের অনুভূতি, বিশ্বাস, প্রতারণা এবং আত্ম-উপলব্ধির এক যাত্রা। আলো ও ছায়া—দুটিই মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চরিত্রগুলোর ভেতর দিয়ে মানুষের মনের অদেখা দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। পাঠকের ভালোবাসা ও মতামতই আমার লেখালেখির সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”
মন্তব্য করুন