
ইরান ইস্যুতে কূটনীতি ও সামরিক চাপ—দুই পথই খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখাচ্ছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে আলোচনায় ব্যর্থতা এলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের ফলেই ইরান পুনরায় আলোচনার টেবিলে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, যদি ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান না নিত, তাহলে তেহরান কখনোই আলোচনায় আগ্রহ দেখাত না। যদিও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ—রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিষয়টি সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে জানতে চাইবেন এবং আশা করেন এতে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মতৈক্য থাকলেও কিছু বিষয়ে সীমিত মতপার্থক্য রয়েছে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, লেবাননের পরিস্থিতি এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান শান্তি উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর গত কয়েকদিন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে শুরু হওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই নজরে আন্তর্জাতিক মহলের।
মন্তব্য করুন