
বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনা শুধু একটি সফল দলই নয়, বরং কোটি কোটি সমর্থকের আবেগের নাম। জয়-পরাজয় নির্বিশেষে দলের পাশে থাকার সংস্কৃতির কারণে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা বিশ্বজুড়ে বিশেষভাবে পরিচিত। দীর্ঘ ৩৬ বছর বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায় থাকলেও তাদের সমর্থনে ভাটা পড়েনি। অবশেষে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় আলবিসেলেস্তেরা।
ড্রাম, পতাকা, ব্যানার, ৯০ মিনিটজুড়ে গান ও স্লোগানে মুখর গ্যালারি—আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ও আবেগপ্রবণ সমর্থক সংস্কৃতির একটি গড়ে তুলেছে আর্জেন্টিনা।
শুধু আর্জেন্টিনাতেই নয়, বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রয়েছে দলটির বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী। কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং বর্তমান সময়ের তারকা লিওনেল মেসির হাত ধরে এই সমর্থন প্রজন্মের পর প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনি বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, সমর্থকদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনাজুড়ে কোটি মানুষের বিজয় উদযাপন বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও বড় জনসমাগমের সময় কিছু বিচ্ছিন্ন বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছিল।
বাংলাদেশেও আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শহর ও গ্রামাঞ্চলে আর্জেন্টিনার ম্যাচকে ঘিরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। নীল-সাদা জার্সি, পতাকা ও নানা আয়োজনে সমর্থকেরা প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
এবারের বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবারও ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এটি তাদের ইতিহাসে সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। আগামী ২০ জুলাই রাত ১টায় স্পেনের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। ফুটবলপ্রেমীদের এখন একটাই প্রশ্ন—তৃতীয় শিরোপার পর এবার কি চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতে জার্সিতে যুক্ত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ফোর স্টার?
ফল যাই হোক, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আর্জেন্টিনা শুধু একটি দল নয়; এটি আবেগ, ঐতিহ্য এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এক অনন্য সমর্থনের প্রতীক।
মন্তব্য করুন