
কেরানীগঞ্জের ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত সংগঠক, বেয়ারা ক্রিকেট একাডেমির দীর্ঘদিনের কোচ এবং সর্বশেষ নাখালপাড়া ক্রিকেট একাডেমি ও এক্সিট ক্রিকেটের কোচ ও ক্রিকেট উন্নয়নের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী কোচ আরিফ সোলাইমান পেশাদার ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় ৩১ বছরের দীর্ঘ ক্রিকেট-জীবনের ইতি টেনে তিনি জানিয়েছেন, এবার পরিবার ও সন্তানদের সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় কোচ আরিফ সোলাইমান বলেন, জন্মস্থান প্রিয় গ্রাম বেয়ারা থেকে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ কেন্দ্র ‘হোম অব ক্রিকেট’ পর্যন্ত তাঁর ৩১ বছরের যাত্রা ছিল শেখা, সংগ্রাম এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক দীর্ঘ অধ্যায়।
তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সবসময় নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরিবার, সহপাঠী, বন্ধু, শিক্ষক, সিনিয়র-জুনিয়র ক্রিকেটার, কোচ, মাঠকর্মী এবং বেয়ারা ক্রিকেট একাডেমির খেলোয়াড়দের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই তাঁকে এই দীর্ঘ পথচলায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
”ক্রিকেটের উন্নয়নে আমি নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি সবসময়। আমার স্বপ্ন—কেরানীগঞ্জ থেকে একদিন একজন ক্রিকেটার বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।”
— কোচ আরিফ সোলাইমান»
কোচ আরিফ সোলাইমান জানান, কেরানীগঞ্জের ক্রিকেটকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও নানা বাস্তবতার কারণে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে নতুন ক্রিকেটার তৈরির পাইপলাইন গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, আগামী প্রজন্ম সেই কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং কেরানীগঞ্জের ক্রিকেট একদিন আরও সমৃদ্ধ হবে।
দীর্ঘ পথচলার নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন কোচ ও সংগঠক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে সব সিদ্ধান্ত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। অনেক খেলোয়াড়কে হয়তো যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেননি, অনেক প্রতিশ্রুতিও পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
”কাজের ব্যর্থতাগুলো সব আমার, আর সাফল্য আপনাদের সবার। যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি কিংবা যথাযথ মূল্যায়ন করতে না পেরে থাকি, তবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”
— কোচ আরিফ সোলাইমান»
তিনি আরও বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে পরিবার ও সন্তানদের সময় দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিতে চান। তাই আপাতত পেশাদার ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
”আমি আপাতত পেশাদার ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে অবসর নিতে চাই। পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে জীবনের বাকি সময়গুলো কাটাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
— কোচ আরিফ সোলাইমান»
বার্তার শেষাংশে ক্রিকেটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, “ধন্যবাদ ক্রিকেট।”
কেরানীগঞ্জের ক্রিকেটে কোচ আরিফ সোলাইমানের এই বিদায় নিঃসন্দেহে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। তবে তাঁর রেখে যাওয়া স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ক্রিকেটার তৈরির ভিত্তি আগামী দিনের কেরানীগঞ্জ ক্রিকেটকে আরও সমৃদ্ধ করবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন