
একসময় কোলন বা কোলোরেক্টাল ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে তরুণ ও অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মধ্যেও এ ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের বৃদ্ধি চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
কেন বাড়ছে তরুণদের কোলন ক্যানসার?
গবেষকদের ধারণা, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রা, স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয় এ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া গবেষণায় ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়ার কিছু বিশেষ ধরন থেকে উৎপন্ন ‘কোলিব্যাকটিন’ নামের একটি বিষাক্ত উপাদানের বিষয়টি উঠে এসেছে। এটি মানুষের ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসারের বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।
অন্যদিকে, নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সসেজ, বেকন ও হটডগ খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়াও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ
রোগটির কিছু লক্ষণ শুরুতে সাধারণ পেটের সমস্যার মতো মনে হতে পারে। তাই নিচের উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়।
১. মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা।
২. পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া অথবা মল কালচে হওয়া।
৩. বারবার পেটে ব্যথা, মোচড়, গ্যাস বা অস্বস্তি অনুভব করা।
৪. কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের ওজন কমে যাওয়া।
৫. দীর্ঘদিন দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা।
৬. মলত্যাগের পরও পেট পরিষ্কার হয়নি—এমন অনুভূতি হওয়া।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
বয়স বাড়ার সঙ্গে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তবে পারিবারিকভাবে কোলন ক্যানসারের ইতিহাস, অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা থাকলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রতিরোধে কী করবেন?
কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস সীমিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যানসার স্ক্রিনিং করানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিন মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে নিজে আইবিএস বা সাধারণ পেটের সমস্যা মনে করে বসে থাকা ঠিক নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সচেতনতা ও সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষাই পারে কোলন ক্যানসার শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার সম্ভাবনা বাড়াতে।
মন্তব্য করুন