
বলিউডের বাদশাহ শাহরুখ খানের জীবনের গল্পে যেমন রয়েছে সাফল্যের নানা অধ্যায়, তেমনি রয়েছে ভালোবাসা ও সংগ্রামের অনন্য কাহিনি। স্ত্রী গৌরী খানের সঙ্গে তাঁর প্রেমের গল্পও যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকে হার মানায়। তবে তাঁদের জীবনের শুরুর দিনগুলো আজকের মতো বিলাসবহুল ছিল না। বরং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁদের দাম্পত্য জীবন।
ঘটনাটি ১৯৯১ সালের। বিয়ের পর স্ত্রী গৌরীকে মধুচন্দ্রিমায় প্যারিস নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শাহরুখ। কিন্তু তখনও বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারেননি তিনি। হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্যারিস যাওয়ার বিমানের টিকিট কেনাও সম্ভব হচ্ছিল না।
ঠিক সেই সময় অভিনয়ের সুযোগ আসে ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’ সিনেমায়। ছবিটির একটি গানের শুটিংয়ের জন্য নির্মাতারা বেছে নেন দার্জিলিংকে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে স্ত্রী গৌরীকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড়ি শহরটিতে চলে যান শাহরুখ।
দার্জিলিংয়ের মেঘে ঢাকা পাহাড় আর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখিয়ে স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘এটাই আমাদের প্যারিস।’ প্যারিসে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও ভালোবাসার মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিজের মতো করে পূরণ করেছিলেন তিনি।
শাহরুখ-গৌরীর সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দার্জিলিংয়ের ঐতিহাসিক হেরিটেজ হোটেল ‘দ্য এলগিন’। জানা যায়, সেই সফরে এই হোটেলেই রাত কাটিয়েছিলেন তারকা দম্পতি।
দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত হোটেলটিতে রয়েছে ২৫টি ডিলাক্স রুম ও স্যুট। অতিথিদের জন্য রয়েছে তিনটি রেস্তোরাঁ—‘অর্কিড ডাইনিং রুম’, ‘টি লাউঞ্জ অ্যান্ড টিম্বার বার’ এবং ‘গার্ডেন গাজেবো’। পর্যটন মৌসুমে এখানে এক রাত থাকার খরচ শুরু হয় প্রায় ১২ হাজার টাকা থেকে।
হোটেলটির ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৮৮৭ সালে এখানে কোচবিহারের মহারাজার প্রাসাদ ছিল। সে সময় রাজকীয় অতিথিদের নিয়ে সেখানে বিভিন্ন আয়োজন ও পার্টি অনুষ্ঠিত হতো। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালে হোটেলটি কিনে নেয় ওবেরয় পরিবার। বর্তমানে এটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পর্যটকদের আকর্ষণীয় আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
শুধু শাহরুখ খান ও গৌরী খানই নন, এই হেরিটেজ হোটেলে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন ফরাসি লেখক ডমিনিক লাপিয়ের, সাংবাদিক মার্ক টালি এবং মডেল-অভিনেতা মিলিন্দ সোমনের মতো পরিচিত ব্যক্তিরাও।
আজ শাহরুখ খান বিশ্বজুড়ে পরিচিত বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা। কিন্তু তাঁর জীবনের শুরুর সেই দিনগুলোর দার্জিলিং সফর মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসার কাছে অনেক সময় অর্থের সীমাবদ্ধতাও হার মেনে যায়।
মন্তব্য করুন