
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যত দ্রুত উন্নত হচ্ছে, ততই বাড়ছে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া এআই তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে ‘আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স’ বা এএসআই নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এটি এমন এক ধরনের সম্ভাব্য এআই ব্যবস্থা, যা মানুষের সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনায় কম্পিউটার বিজ্ঞানী অধ্যাপক স্টুয়ার্ট রাসেল সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে উন্নত এআইয়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেস ব্রাউনও মনে করেন, সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই ভবিষ্যতে পারমাণবিক যুদ্ধের চেয়েও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতর থেকেও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। অ্যানথ্রোপিকের গবেষক জেকুব কক্সনের অভিযোগ, আরও শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
অ্যানথ্রোপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের প্রধান ইভান হাবিংগারও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার হিসাবে, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কিছু গবেষকের মতে, অত্যন্ত উন্নত এআই তৈরি ও পরিচালনার জন্য বিপুল অর্থ, শক্তি ও অবকাঠামোর প্রয়োজন হবে। ফলে বাস্তবে এর সক্ষমতা অর্জন প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আরেকটি অংশ বলছে, ভবিষ্যতের বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কার পাশাপাশি এআইয়ের বর্তমান প্রভাবগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কর্মসংস্থানে পরিবর্তন, ভুল তথ্যের বিস্তার এবং ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাব ইতোমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তাই এআই কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠবে, তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টি এখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন