
বাংলাদেশ ল’ অ্যান্ড জুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ব্লাজা)-এর সভাপতি, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও বিভিন্ন ধরনের ট্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর অতীতের ছবি, কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সময়ের ভূমিকা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপনের মাধ্যমে সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ ল’ অ্যান্ড জুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ব্লাজা)।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদার অতীতের বিভিন্ন ছবি ও কর্মকাণ্ডকে সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ব্লাজার দাবি, এ ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে বার কাউন্সিল পরীক্ষা এবং তৎকালীন বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অ্যাডভোকেট ফিদা আইনজীবী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার এবং ন্যায়সংগত দাবির পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
বিবৃতিতে দীর্ঘদিন সেশনজটে থাকা প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবীর দাবির পক্ষে আন্দোলন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়। ব্লাজার দাবি, শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের পেশাগত ভবিষ্যৎ ও অধিকারসংক্রান্ত এসব কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট মহলে পরিচিত।
ব্লাজার বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতে অধিকার আদায়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও তথ্য বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক অবস্থান, মতপার্থক্য কিংবা কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক বিষয়। তবে কাউকে হেয় করা, সামাজিক বা পেশাগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে অপবাদ, বিশেষণ কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্যাগ ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।
কোনো ব্যক্তির অতীতের ছবি, বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ব্লাজা। সংগঠনটির মতে, বিচ্ছিন্ন কোনো ছবি বা ঘটনার ভিত্তিতে দীর্ঘ সময়ের কর্মকাণ্ড ও অবস্থান বিচার করা হলে প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল হওয়ার পাশাপাশি বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ব্লাজা বলেছে, সম্মুখসারির যোদ্ধাদের ভূমিকা বিকৃত করা কিংবা তাঁদের অতীতের কর্মকাণ্ড ও পরিচয়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সংগঠনটি অবস্থান নেবে।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কোনো ছবি, তথ্য বা বক্তব্য প্রচারের আগে তা যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে মতামত প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন এবং ট্যাগিংনির্ভর প্রচারণা থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানানো হয়।
ব্লাজার মতে, রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় পরিণত না হয়। যেকোনো সমালোচনা তথ্য, যুক্তি ও যথাযথ প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতির শেষাংশে ব্লাজা সত্য, ন্যায়, আইনের শাসন ও জুলাইয়ের চেতনার পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে প্রচারণা চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা এবং পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন