
ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, কাস্টম ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল এমপি। আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, রোহিঙ্গা সংকট, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম, জনশক্তি রফতানি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে সরকার সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তিনি বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ইউরোপসহ বিভিন্ন রুটে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬’ পাস হয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বালি প্রসেসের আওতায় সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
জুলিয়ান হিল বাংলাদেশের নতুন আইনটির প্রশংসা করে এর কার্যকর বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন জরুরি।
এছাড়া, গত ১৪-১৮ জুন ২০২৬ অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে উভয় দেশ একমত হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে অস্ট্রেলিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলিয়ান হিলকে স্বাগত জানান এবং কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন