Dhaka 11:41 pm, Saturday, 13 June 2026

২০২৮ থেকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হতে যাওয়া চার নতুন বিষয়

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:49:36 am, Thursday, 11 June 2026
  • 19 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এগুলো হলো—আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

ঘোষণা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বাধ্যতামূলক করা হবে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ যুক্ত হবে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় একটি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

খেলাধুলা ও সংস্কৃতি

নতুন যুক্ত হওয়া এসব বিষয়ে কোনো গ্রেড বা জিপিএ নির্ধারণ করা হবে না।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন স্কুলে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থাকলেও সেগুলো শিক্ষাক্রমের অংশ নয়। নতুন পরিকল্পনায় এসব কার্যক্রমকে পাঠ্যসূচির আওতায় আনা হবে।

প্রাথমিকভাবে কয়েকটি খেলা যুক্ত করা হবে। ফুটবল ও দাবা দিয়ে শুরু করার কথা জানানো হয়েছে; ক্রিকেটও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খেলাও যোগ করা হবে।

সংস্কৃতি বিষয়টিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—পারফরমেটিভ ও এক্সপ্রেসিভ। পারফরমেটিভ অংশে গান, নাচ, আবৃত্তি, বিতর্ক, বক্তৃতা ইত্যাদি পরিবেশনভিত্তিক কার্যক্রম থাকবে। এক্সপ্রেসিভ অংশে চিত্রাঙ্কন, সাহিত্যচর্চাসহ সৃজনশীল প্রকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা আগ্রহ অনুযায়ী ক্ষেত্র বেছে নিতে পারবে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদেরকে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পড়তে হবে।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারায় আনাই লক্ষ্য। প্রতিটি স্কুলে ধীরে ধীরে কারিগরি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তার মতে, সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়মুখী শিক্ষা একমাত্র পথ নয়। স্কুল পর্যায়েই কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হলে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতা বাড়বে।

আনন্দময় শিক্ষা বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হতে যাওয়া ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বিষয়টি কেবল একটি পাঠ্যবিষয় নয়, বরং পুরো শিক্ষাব্যবস্থার নীতিগত কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, এ বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক আচরণ, দায়িত্ববোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব মূল্যবোধ চর্চার সুযোগ থাকবে। যেমন—বৃক্ষরোপণ, বিভিন্ন জাতীয় দিবসের তাৎপর্য অনুধাবন ইত্যাদি।

বাস্তবায়ন পরিকল্পনা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে কিছু বিষয় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০২৮ সালের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা হবে। সব শ্রেণিতে একযোগে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

নতুন বিষয়গুলো চালুর জন্য বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষক প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ এবং সংস্কৃতি শিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয়ে পাঠদানের জন্য আলাদা নির্দেশিকা তৈরি ও ধাপে ধাপে শিক্ষক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন যুক্ত হওয়া বিষয়গুলোতে গ্রেড বা জিপিএ থাকবে না। শিক্ষার্থীদের পাস বা ফেল ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফেসবুক বিভ্রাট নিয়ে যা জানালেন মেটার মুখপাত্র

২০২৮ থেকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হতে যাওয়া চার নতুন বিষয়

আপডেট সময় : 06:49:36 am, Thursday, 11 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এগুলো হলো—আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

ঘোষণা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বাধ্যতামূলক করা হবে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ যুক্ত হবে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় একটি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

খেলাধুলা ও সংস্কৃতি

নতুন যুক্ত হওয়া এসব বিষয়ে কোনো গ্রেড বা জিপিএ নির্ধারণ করা হবে না।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন স্কুলে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থাকলেও সেগুলো শিক্ষাক্রমের অংশ নয়। নতুন পরিকল্পনায় এসব কার্যক্রমকে পাঠ্যসূচির আওতায় আনা হবে।

প্রাথমিকভাবে কয়েকটি খেলা যুক্ত করা হবে। ফুটবল ও দাবা দিয়ে শুরু করার কথা জানানো হয়েছে; ক্রিকেটও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খেলাও যোগ করা হবে।

সংস্কৃতি বিষয়টিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—পারফরমেটিভ ও এক্সপ্রেসিভ। পারফরমেটিভ অংশে গান, নাচ, আবৃত্তি, বিতর্ক, বক্তৃতা ইত্যাদি পরিবেশনভিত্তিক কার্যক্রম থাকবে। এক্সপ্রেসিভ অংশে চিত্রাঙ্কন, সাহিত্যচর্চাসহ সৃজনশীল প্রকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা আগ্রহ অনুযায়ী ক্ষেত্র বেছে নিতে পারবে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদেরকে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পড়তে হবে।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারায় আনাই লক্ষ্য। প্রতিটি স্কুলে ধীরে ধীরে কারিগরি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তার মতে, সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়মুখী শিক্ষা একমাত্র পথ নয়। স্কুল পর্যায়েই কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হলে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতা বাড়বে।

আনন্দময় শিক্ষা বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হতে যাওয়া ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বিষয়টি কেবল একটি পাঠ্যবিষয় নয়, বরং পুরো শিক্ষাব্যবস্থার নীতিগত কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, এ বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক আচরণ, দায়িত্ববোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব মূল্যবোধ চর্চার সুযোগ থাকবে। যেমন—বৃক্ষরোপণ, বিভিন্ন জাতীয় দিবসের তাৎপর্য অনুধাবন ইত্যাদি।

বাস্তবায়ন পরিকল্পনা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে কিছু বিষয় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০২৮ সালের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা হবে। সব শ্রেণিতে একযোগে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

নতুন বিষয়গুলো চালুর জন্য বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষক প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ এবং সংস্কৃতি শিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয়ে পাঠদানের জন্য আলাদা নির্দেশিকা তৈরি ও ধাপে ধাপে শিক্ষক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন যুক্ত হওয়া বিষয়গুলোতে গ্রেড বা জিপিএ থাকবে না। শিক্ষার্থীদের পাস বা ফেল ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।