মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
চলতি সপ্তাহেই ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দামও বেড়ে প্রায় ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথ বাব আল-মান্দেব ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও চাপে ফেলছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লোহিত সাগরের তেল পরিবহন ব্যাহত করার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ডব্লিউটিআই তেলের দাম স্বল্পমেয়াদে ৮০ ডলারের আশপাশে স্থিতিশীল হতে পারে। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক বাজার এখনো অস্থির রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ সাব্বির (নিথিম)
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ তানজিলুল ইসলাম তামিম
Copyright © 2026 Desh Scope 24. All rights reserved.